শরীয়তপুরের জাজিরায় আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে অন্তত দেড় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এতে ককটেলের আঘাতে মান্নান সরদার (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন এবং রিপন মোল্লা (৪০) নামে অন্য একজনের ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
এদিকে মান্নান সরদারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকা জুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে স্থানীয় মোশারফ চৌকিদার ও আজাহার চৌকিদারের মধ্যে বিরোধ চলছিল, যা পরবর্তীতে স্থানীয় রাজনৈতিক কোন্দলে রূপ নেয়। গত সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের লাউখোলা এলাকায় রেজাউল সিকদার সমর্থিত এসকেনদার সরদার, আতাউর মাঝি, আমির মাঝি ও ওয়াসিম মোল্লার গ্রুপ এবং তমিজ খা সমর্থিত বাবুল মোল্লা ও লাবলু মোল্লাদের গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়।
সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে উভয় পক্ষ বিপুল পরিমাণ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণে হামি মোল্লার ছেলে রিপন মোল্লার ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অপরদিকে, ককটেলের আঘাতে গুরুতর আহত সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুর চরকান্দি এলাকার মৃত আলিউদ্দিন সরদারের ছেলে মান্নান সরদারকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

মান্নান সরদারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই রেজাউল সিকদার ও তার অনুসারীরা দিনদুপুরে ও রাতে প্রতিপক্ষের অন্তত শতাধিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। বাদ যায়নি নারী ও শিশুদের ওপর হামলাও। এ ঘটনায় মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার, গরু-ছাগলসহ অন্তত কোটি টাকার সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দাবি করেছে।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ওমর ফারুক বলেন, ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে একজনের হাতের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। অপরজনকে হাসপাতালে আনার পর মৃত ঘোষণা করা হয়।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সংঘর্ষে একজন নিহতের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আটজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একজনের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং বাড়িঘরে লুটপাট হওয়ার খবর পেয়েছি, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাইনি। এলাকাটিতে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেজন্য গত দুই দিন ধরে জাজিরা থানা পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালিয়েছিল। তা সত্ত্বেও এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং কবজি বিচ্ছিন্ন ও লুটপাটের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
