যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। ফলে শুক্রবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও একই সময়ে বাংলাদেশে সোনার দাম নতুন করে বাড়ানো হয়েছে, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪১৯ দশমিক ০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর একপর্যায়ে সোনার দাম ২ শতাংশের বেশি কমে দিনের সর্বনিম্ন ৪ হাজার ৩৬৪ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে যায়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর ডেলিভারির গোল্ড ফিউচার ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৬ দশমিক ৬০ ডলারে লেনদেন শেষ করেছে। সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহে বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম সামান্য কমে সপ্তাহ শেষ হওয়ার পথে রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের শক্তিশালী তথ্য দেশটির অর্থনীতির দৃঢ়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে ফেডারেল রিজার্ভ চলতি মাসেই সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বাড়লে কোনো সুদ বা নিয়মিত আয় দেয় না এমন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সোনা থেকে সরে অন্য সম্পদে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এরই প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বিশ্ববাজারের এই পতনের বিপরীতে বাংলাদেশে সম্প্রতি আবারও বেড়েছে সোনার দাম। টানা তিন দফা কমার পর দেশের বাজারে এবার ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা। এর আগে গত বুধবার এই মানের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। অর্থাৎ ভরিতে দাম বেড়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৪ টাকা। সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা বিক্রি হবে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ টাকায়।
ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমলেও দেশের বাজারে দাম বাড়ার বিষয়টি ক্রেতাদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের বিনিময় হার ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সামনে বাংলাদেশের সোনার দামে আবারও পরিবর্তন আসতে পারে।
