বিকাশে ঘুষ দিয়ে নিউজ ডিলিটের চেষ্টা মির্জাগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার, টাকা ফেরত দিলেন সাংবাদিক “জবাবে” ভুল জায়গায় নক করেছেন
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ অনলাইন পোর্টাল থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য (ডিলিট করতে) চাপ প্রয়োগ এবং সাংবাদিককে বিকাশে টাকা (ঘুষ) পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
জানা গেছে, গত সোমবার (১ জুন) মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নানা অনিয়ম ও কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি নিয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ‘পায়রা নিউজ’-এর অনলাইন পোর্টালে একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদটি প্রকাশের পর একই দিন সন্ধ্যায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলাউদ্দিন মাসুদ দৈনিক পায়রা নিউজের সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সুজনকে মোবাইল ফোনে কল করেন। তিনি নিউজটি ডিলেট করার জন্য অনুরোধ জানান এবং উল্লেখ করেন যে— সংবাদটি সরিয়ে ফেলা না হলে তিনি শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) বা বদলির মুখে পড়তে পারেন।
‘আয়-ইনকাম কম’ বলে বিকাশ নম্বর দাবি:
ফোনালাপের একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তা নিজের আর্থিক অসচ্ছলতার অজুহাত দেখিয়ে বলেন, “আমার আয়-ইনকাম কম।” এরপর তিনি সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সুজনের বিকাশ নম্বর চান। সম্পাদক বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, এর কিছুক্ষণ পর ডা. আলাউদ্দিন মাসুদের ব্যক্তিগত নম্বর থেকে সম্পাদকের নম্বরে বিকাশে পাঠানো হয়।
তাৎক্ষণিক টাকা ফেরত ও সম্পাদকের জবাব:
টাকা আসার পরপরই সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সুজন ওই কর্মকর্তার কাছে টাকা পাঠানোর কারণ জানতে চান এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুরো টাকা ফেরত (সেন্ড মানি ব্যাক) পাঠিয়ে দেন।
এই বিষয়ে সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সুজন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে সাফ জানিয়ে দেন, “আপনি ভুল জায়গায় নক করেছেন— পেশাদার সাংবাদিকরা অন্যায়ের কাছে বিক্রি হন না।”
কর্মকর্তার অদ্ভুত দাবি:
সাংবাদিককে টাকা পাঠানোর কারণ সম্পর্কে পরবর্তীতে ডা. আলাউদ্দিন মাসুদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অদ্ভুত এক দাবি করেন। তিনি বলেন, “চা খাওয়ার জন্য এবং সম্মানী হিসেবে” ওই টাকা দেওয়া হয়েছিল।
জেলা কর্মকর্তার বক্তব্য ও তদন্তের আশ্বাস:
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়— “উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা যদি অপরাধী না-ই হতেন, তবে সাংবাদিকদের টাকার অফার কেন করলেন” এর জবাবে জেলা কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, “সাংবাদিকদের এভাবে টাকার প্রস্তাব দেওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক।”

