মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ, মির্জাগঞ্জ, প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল পটুয়াখালী জেলা শাখার অধীনস্থ মির্জাগঞ্জ উপজেলার সদ্য বিতর্কিতভাবে গঠিত সকল ইউনিয়ন কমিটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। যথাযথ সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গঠন করার অভিযোগে রবিবার (২৩ আগস্ট) কেন্দ্রীয় সংসদের এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এ নির্দেশ প্রদান করা হয়।
কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির কর্তৃক অনুমোদিত এবং
বার্তা প্রেরক হিসেবে কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বার্তা দেয়া হয়।
যার ফলে তৃণমূলের ত্যাগী ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে নতুন নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এসব ইউনিয়নের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বাশার মোখলেছ ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল মৃধা কর্তৃক গত সপ্তাহে গঠিত কমিটিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা ত্যাগী কর্মীরা চরম অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছিলেন। যার জবাবে পাল্টাভাবে কমিটি গঠন করেছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ( সিগনেচার পাওয়ার) মোঃ রাজিব হোসেন,১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহীম হোসেন সহ কয়েকজন মিলে। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নজরে গেলে এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই তাঁরা বিতর্কিত সমগ্র কমিটিগুলো বাতিল বলে ঘোষণা করেন।
কমিটি বাতিলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আনন্দের জোয়ার দেখা দিয়েছে।
তাদের মতে, কেন্দ্রীয় সংসদের এই পদক্ষেপ সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
এ নিয়ে কথা বলেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন। তিনি বলেন, “দলের মূল শক্তি হচ্ছে তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীরা। অবমূল্যায়নের শিকার নেতাদের প্রত্যাশা পূরণে এবং সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে মির্জাগঞ্জে ভবিষ্যতে একটি সুসংগঠিত ও আদর্শভিত্তিক কমিটি গঠিত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।”
উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজিব হোসেন জানান, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠন। গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তৃণমূলের যোগ্য কর্মীরা বঞ্চিত হয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তে মির্জাগঞ্জ ছাত্রদলের প্রকৃত ও রাজপথের ত্যাগী নেতাকর্মীরা পুনরুজ্জীবিত হয়েছেন।”
