BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

ভাইয়ের মরদেহ নিতে বাংলাদেশে এসে ৫০ দিন ধরে অপেক্ষায় আফগান নাগরিক!

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশে এসে প্রায় ৫০ দিন ধরে অপেক্ষা করছেন তার ভাই ইমাল মোহাম্মদী। প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র, ডিএনএ পরীক্ষার নথি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি থাকা সত্ত্বেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না পাওয়ায় কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া আটকে আছে। এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতে ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফেরানোর অপেক্ষায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ইমাল।

গত ১৩ এপ্রিল মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মরদেহের আঙুলের ছাপ নিয়ে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজে অনুসন্ধান চালালেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পরদিন ১৪ এপ্রিল আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মরদেহটি ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মরদেহের ছবি দেখে আফগানিস্তানে থাকা স্বজনেরা তাকে শনাক্ত করেন। তারা জানান, ওই ব্যক্তি আফগানিস্তানের কাবুলের পাঞ্জশির এলাকার কুন্ডুস গ্রামের বাসিন্দা ইয়াসিন মোহাম্মদী ও সকিনা মোহাম্মদী দম্পতির ছেলে হাসমত মোহাম্মদী।

হাসমতের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার লন্ডনপ্রবাসী ভাই মীর ওয়াইস মোহাম্মদী বাংলাদেশে এসে মরদেহ দেশে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তখন মরদেহ হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।

এরপর দাফনের চার মাস ২৪ দিন পর সোমবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশে আসেন হাসমতের আরেক ভাই ইমাল মোহাম্মদী। তিনি ডিএনএ পরীক্ষার নথি, মন্ত্রণালয়ের চিঠি, পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ঝিনাইদহে অবস্থান করছেন।

তবে সব নথিপত্র থাকার পরও মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় প্রায় ৫০ দিন ধরে ঝিনাইদহে অপেক্ষা করছেন তিনি।

হাসমত মোহাম্মদীর বাংলাদেশি আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন শাখা-১-এর উপসচিব কাজী আরিফুর রহমান গত ১১ আগস্ট স্মারক নম্বর ৮১৯-এর মাধ্যমে পররাষ্ট্র সচিব, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছেন।

ওই চিঠিতে কবর থেকে হাসমতের মরদেহ উত্তোলন করে আফগানিস্তানে পাঠানোর বিষয়ে অনাপত্তি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৃত ব্যক্তি একজন বিদেশি নাগরিক হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তির পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক নির্দেশনাও প্রয়োজন। সেই চিঠি এখনো না পাওয়ায় মরদেহ উত্তোলন ও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না।

ঝিনাইদহের একটি রেস্টুরেন্টে অবস্থানরত ইমাল মোহাম্মদী বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তার ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের কোনো আইনি দাবি নেই; তারা শুধু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ভাইয়ের মরদেহ নিজ দেশে নিয়ে গিয়ে দাফন করতে চান।

কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান।

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে অনাপত্তি দিয়েছে। এখন শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় নির্দেশনার অপেক্ষা করা হচ্ছে। মানবিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন সোমবার বিকেলে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়া গেলে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

এদিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও দাপ্তরিক জটিলতায় দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষা। ভাইয়ের মরদেহ নিজ দেশে নিয়ে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষবারের মতো দাফন করার আশায় ঝিনাইদহে অপেক্ষা করছেন ইমাল মোহাম্মদী।

প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »