দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়িয়েছে। প্রথম দফায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট ওয়ার্কার্স পার্টির (পিটি) প্রার্থী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং লিবারেল পার্টির (পিএল) প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর কেউই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। ফলে আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ভোটে মুখোমুখি হবেন তারা।
রোববার (৪ অক্টোবর) প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়। টিএসইর প্রায় পূর্ণাঙ্গ ফল অনুযায়ী, ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৭.০৩ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৫ কোটি ৬১ লাখের বেশি ভোট। অন্যদিকে লুলা দা সিলভা পেয়েছেন ৪৫.১৬ শতাংশ ভোট, অর্থাৎ ৫ কোটি ৩৮ লাখের বেশি ভোট।
ব্রাজিলের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি পেতে হয়। কোনো প্রার্থী এ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনী প্রচারণায় লুলা সামাজিক নিরাপত্তা, দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে আমাজন বন রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বিষয়ও তার প্রচারণায় গুরুত্ব পেয়েছে।

অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো রক্ষণশীল সামাজিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক নীতি, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে কঠোর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তার বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক নেতা। তিনি ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২৩ সালে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। এবার তিনি পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে এবং রিও ডি জেনেইরোর বর্তমান সিনেটর। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি বৈধ ভোট না পাওয়ায় আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে শুধু লুলা ও ফ্লাভিও বলসোনারো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যে প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় বেশি বৈধ ভোট পাবেন, তিনিই ব্রাজিলের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন।
