জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের ভাবনা ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না করে কোনো রাষ্ট্রই শক্তিশালী হতে পারে না। একই সঙ্গে তরুণ, নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, স্বাবলম্বী, কল্যাণমুখী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, দল-মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব মানুষ যেন সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
নিজের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চান যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে এবং প্রতিটি শিশু তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে। এ লক্ষ্যেই সরকারের প্রত্যয়—‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ পরিবেশের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিরাপদ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে এবং বর্তমান বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জীবপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতির সুযোগ যেন সব দেশের মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি, রোহিঙ্গা সংকট ও বিশ্বশান্তির বিষয়ও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেন এবং বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিদায়ী সভাপতি এনালেনা বেয়ারবককে তার নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।
ভাষণের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী আবারও নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের জন্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে সবাই সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবে। সেই লক্ষ্যেই তিনি উচ্চারণ করেন—‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।
