জামালপুরে নাশকতার মামলার বাদীকে আদালত প্রাঙ্গণে মারধরের অভিযোগে জান্নাতুল হুমায়রা ওরফে জেমি নামে এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার মামলার শুনানি শেষে বাদীকে মারধরের ঘটনায় তাকে আটক করে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মারধরের বিষয়টি স্বীকার করলে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর কোর্ট ইন্সপেক্টর (ওসি) মো. খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার মো. রাসেল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার লাঙ্গলজোড়া এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
কোর্ট পুলিশ ও আহত রাসেলের পরিবারের বরাতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মুন্সীনাংলা এলাকায় একটি শিল্পকারখানায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, জান্নাতুল হুমায়রা, মাসুদ, সামিউল ইসলাম ওরফে জাম্বুর, আমিনুর ইসলাম ওরফে ফকির এবং আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানাটিতে হামলা চালান। এ সময় ফাঁকা গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় একই দিন মেলান্দহ থানায় বাদী হয়ে নাশকতার মামলা করেন রাসেল হোসেন।
মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে রাসেল আদালত প্রাঙ্গণে তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় জান্নাতুল হুমায়রা ও মাসুদের নেতৃত্বে কয়েকজন আসামি তার ওপর হামলা চালান। তারা রাসেলের গেঞ্জির কলার ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে তিনি আহত হন। পরে আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জান্নাতুল হুমায়রাকে আটক করেন।
আহত রাসেল হোসেন অভিযোগ করেন, মামলা প্রত্যাহার করতে আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। মঙ্গলবার শুনানি শেষে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সময় পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে মারধরের পাশাপাশি মামলা তুলে না নিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে জান্নাতুল হুমায়রাকে ঘিরে এর আগেও জামালপুর আদালত প্রাঙ্গণে অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি তার এক আত্মীয়ের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন জামালপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জান্নাতুল হুমায়রার নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ আদালত প্রাঙ্গণে হট্টগোল করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। বিষয়টি নিয়ে তখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে জামালপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রিশাদ রেজওয়ান বাবু বলেন, আদালত প্রাঙ্গণ বিচারপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হওয়ার কথা। সেখানে মামলার বাদীকে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। এ ধরনের ঘটনা বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থার পরিবেশ ও আদালতের মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান তিনি।
জামালপুর কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, মঙ্গলবার মামলার শুনানি শেষে ওই নারীসহ কয়েকজন আসামি বাদীকে মারধর করেন। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে আদালতের নির্দেশে জান্নাতুল হুমায়রাকে আটক করে বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি নিজেই মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
