প্রেমিকা যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার বাবাকে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ভারতের গুজরাটের সুরাটে ঘটে এ ঘটনা। পরে অভিযান চালিয়ে অপহৃত নির্মাণ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই যুবকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১ অক্টোবর নির্মাণ ব্যবসায়ী মুকেশ নাহাটার বাড়িতে যান তার ছেলে ঋষভ নাহাটা ও তার দুই বন্ধু। ওই সময় ব্যবসায়ীর মেয়ে বাড়িতে ছিলেন না। প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার কারণ জানতে গিয়ে ঋষভ তার বাবার সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সুরাটের সিটি লাইট এলাকায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে ঋষভসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ঋষভের সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ওই নারী তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ঋষভ।

জিজ্ঞাসাবাদে ঋষভ অবশ্য ভিন্ন দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, তার এক নারী বন্ধুকে ওই ব্যবসায়ীর মেয়ে ফোনে গালিগালাজ করেছিলেন। বিষয়টি জানতে ওই নারীর বাড়িতে যান তিনি। সেখানে তাকে না পেয়ে তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে যান বলে দাবি করেন ঋষভ।
গ্রেপ্তার হওয়া অপর দুজন হলেন আদাজানের দেব কেতন আহির এবং উমরগামের লক্ষ্মণ রাঠোর। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দেব ঋষভের বন্ধু এবং অপহরণে ব্যবহৃত পিস্তলটি তার কাছে ছিল। আর লক্ষ্মণ ওই নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধেই আগে থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৪১ লাখ ৪০ হাজার রুপি মূল্যের বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুরো ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে।
