ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর নয়াদিল্লি-তেহরানের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই ভারতকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কোনো দেশ যদি ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করে, তাহলে ওই দেশের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন। তবে ভারত ও ইরানের মধ্যে নতুন কোনো বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে—এমন সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না বলেও জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কো রুবিও বলেন, ভারত ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কোনো বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তার মতে, প্রতিটি দেশই নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার অধিকার তাদের রয়েছে।
রুবিও বলেন, ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রয়েছে। একইভাবে ওয়াশিংটনেরও তেহরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কোনো দেশ যদি দেশটিকে সহযোগিতা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।
এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের হুঁশিয়ারির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন রুবিও। তিনি বলেন, কোনো দেশেরই উচিত হবে না ইরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, কোনো দেশ যদি ইরানকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ তৈরি করে দেয় কিংবা তেহরানকে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের পথ করে দেয়, তাহলে সেই দেশের বিরুদ্ধেও ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।
রুবিওর ভাষায়, ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত কোনো দেশ নিলে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করতে হবে।
সাক্ষাৎকারে রুবিও আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ওয়াশিংটন মূলত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল অনুসরণ করছে।
তবে প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকারও যুক্তরাষ্ট্র সংরক্ষণ করে রেখেছে বলে সতর্ক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনো কঠোর।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে মার্কিন বাহিনীর রাত্রিকালীন হামলার কথা স্বীকার করে ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।
এর জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের নতুন কৌশল ওয়াশিংটনের ভিত্তিকে চূর্ণ করে দেবে।
সব মিলিয়ে মোদি ও পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর ভারত-ইরান সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হলেও, ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নয়াদিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
