মল্লিক মাকসুদ আহমেদ মির্জাগঞ্জ,প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে উপজেলার ৩নং আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দাসের ডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম ইমরান হোসেন সবুজ (২৯)। তিনি একই গ্রামের হারুন হাওলাদারের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সবুজ নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন এবং ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তার বাবা ও মামা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তারা প্রথমে কলিং বেল বাজান এবং মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা খুলে ভেতরে তাকান। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, ঘরের ছাদের লোহার হুকের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন সবুজ। ঘরে কোনো ফ্যান ছিল না।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করা হলেও তাকে আর জীবিত রাখা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে এবং এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
নিহতের সবুজের এক মামা জানান, “আমার ভাগিনা দীর্ঘ ৪-৫ বছর প্রবাসে ছিল। দেশে ফিরে সে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিল। সে খুবই ভদ্র ও ভালো ছেলে ছিল, তার কোনো শত্রু ছিল বলে আমরা জানি না। কিন্তু তার এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়ার সময় তার দুই হাত পেছনের দিকে বাঁধা ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, “মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতের হাত পেছন দিকে লুস দিয়ে বাঁধা ছিল। যা ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করব।”
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় অন্য কোনো কারণ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন সকালে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরু জবাই করে বাড়িতে ফেরেন সবুজ। এরপর নিজ কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা কোনো সাড়া না পেয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।