এনামুল হক, স্টাফ রিপোর্টার:
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগমের প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। কোন প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়াই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলা হয়। জেলায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ এর প্রতিবাদ জানালে সন্ত্রাসীদের হামলায় সময় টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি বিএম ইস্রাফিলসহ অপর ৩জন সাংবাদিক আহত হয়েছে।
এ ঘটনায় রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সম্মুখে এসব কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকরা।
আহত সাংবাদিক, প্রেসক্লাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহরের শিল্পকলা একাডেমির পশ্চিমপাশে শরীয়তপুর প্রেসক্লাব অবস্থিত। প্রায় ২ যুগ আগে ১৪ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত প্রেসক্লাবের চারিদিকে রয়েছে পাকা বাউন্ডারী ওয়াল। শনিবার দিবাগত রাতে জেলা প্রশাসকের নিদের্শে তিনদিকের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে রাতেই সাংবাদিকরা ফেসবুকে লিখে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
রবিবার (২৩ আগষ্ট) সকালে সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবের ভেঙ্গে ফেলা সীমানা প্রাচীর পরিদর্শণে গেলে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়। হামলায় সময় টেলিভিশনের শরীয়তপুর প্রতিনিধি, প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম ই¯্রাফিলের ডান হাত ভেঙ্গে যায়। এছাড়া তার মাথায় ও বুকে জখম হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন রবীন, কালেরকন্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শরিফুজ্জামান ইমনসহ ৩জন আহত হয়েছে। একুশে টেলিভিশনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিক শরীয়তপুর খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আবুল বাশার বলেন, শরীয়তপুরে সময় টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক সাহসী সাংবাদিক বিএম ইস্রাফিলের উপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রশাসনের প্রতি এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার সাথে যারা জড়িত, তাদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে শরীয়তপুরে কর্মরত সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিক বিএম ইস্রাফিলের পাশে থাকার অনুরোধ করছি।
ডিবিসি টেলিভিশনের শরীয়তপুর প্রতিনিধি রাজিব হোসেন রাজন বলেন, যারা সংবাদকর্মীদের উপর হামলা করেছে, সেই দুস্কৃতিকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং জেলা প্রশাসকের মদদে এ হামলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
এদিকে প্রেসক্লাবের ওয়াল ভাঙ্গার প্রতিবাদ করায় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদারের ছেলে পলাশের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায় বলে দাবি আহত সাংবাদিক বিএম ইস্রাফিলের।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. মো. আকরাম এলাহী বলেন, আহত সাংবাদিকের হাত ভেঙ্গে যাওয়া, মাথায়, পায়ে এবং বুকের পাজরে আঘাত পেয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, তিনি মৌখিক স্বীকৃতি পেয়ে প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ভাঙার নির্দেশনা দিয়েছেন।
