এস এম জাহিদুল:ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত করতে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

তিনি বলেন, প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার কাজে ব্যয় করলে সম্মিলিতভাবে ঢাকা দক্ষিণকে ডেঙ্গুমুক্ত করা সম্ভব।শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর মুগদায় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে মশকের প্রজনন স্থল ধ্বংস, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম ও জনসচেতনতা মূলক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকারের নির্বাচনের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ঢাকাকে আগামীর প্রজন্ম ও ঢাকাবাসীর উপযোগী করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার প্রতি শনিবারকে সিটি কর্পোরেশনের ‘ক্লিনিং ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।তিনি বলেন, ঢাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে বাংলাদেশকে এবং বিশেষ করে ঢাকাকে ডেঙ্গুমুক্ত করা সম্ভব।মুগদা হাসপাতালের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরের ডেঙ্গু আক্রান্তদের বড় একটি অংশ মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুগদা হাসপাতালকে শুধু স্থানীয় মানুষের জন্য নয়, ঢাকার জনগণের ডেঙ্গু চিকিৎসার দায়িত্বও দিয়েছেন।ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, তিনি রাতদিন কাজ করে ঢাকাকে ডেঙ্গুমুক্ত করার পাশাপাশি নর্দমা পরিষ্কার ও নগরবাসীর জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। একইভাবে জনগণকেও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।তিনি বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশন বা সরকারের এক পক্ষের পক্ষে এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এ জন্য নগরবাসীর সচেতন অংশগ্রহণ প্রয়োজন।দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একদিকে একটি দল বাংলাদেশকে রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করার জন্য চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করছে। অন্যদিকে সরকার ঢাকাসহ দেশের মানুষের কল্যাণে এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। জনগণের জন্য কাজ করাই সরকারের লক্ষ্য। একই সঙ্গে কোনো অপশক্তি, ফ্যাসিস্ট বা কোনো রাজনৈতিক পক্ষ যাতে দেশে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ পাঁচ বছরের জন্য এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। যারা দেশকে আবার অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকারের বাংলাদেশ চায় না। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা ও সহযোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে।
