গাজীপুর সংবাদদাতা: ঢাকা থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত নেওয়ার সময় বন্দী পলায়নের সাজানো নাটকের রহস্য উদঘাটন করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় ভুয়া পলায়নের গল্প সাজানোর অভিযোগে পুলিশের এক এসআই ও প্রিজন ভ্যানের চালকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পলায়নকারী বন্দী পিচ্ছি রাজার বোন তাসলিমা।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানাধীন বাইমাইল ব্রিজের ১০০ গজ পশ্চিমে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে ২৯ জন আসামি নিয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত যাওয়ার সময় কাশিমপুর কারাগারের হাজতি বন্দী নম্বর ৩৭থ৪/২৬ রাজা ওরফে বাদশা ওরফে পিচ্ছি রাজা (৩৪) কৌশলে পালিয়ে যায় বলে একটি অভিযোগ করা হয়েছিল। পলাতক পিচ্ছি রাজা ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের (বাসা নম্বর ১১৭, ব্লক-এ) মৃত মোতালেবের ছেলে। এ ঘটনায় কোনাবাড়ী থানায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর একটি মামলা দায়ের করা হয়, যার নম্বর ২৭। মামলাটির তদন্তভার জিএমপির ডিবি (দক্ষিণ) বিভাগে অর্পণ করা হয়।
ডিবি (দক্ষিণ) বিভাগের পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুর রহমান মামলার তদন্ত শুরু করেন। এসি ডিবি আছাবুর রহমান, এসি জোসেফ মঞ্জুর চৌধুরী এবং পরিদর্শক নাহিদ হাসান সুমনসহ একটি চৌকস দল তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করে।

তদন্তকারী দল বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহ করে এজাহারে বর্ণিত তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের গরমিল খুঁজে পায়। তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার দিন ২৯ জন আসামি নিয়ে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে প্রিজন ভ্যানটি রওনা দেওয়ার পর তাঁতীবাজার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে এসে থামানো হয়। সেখানে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজন ভ্যানের চাবি নেন। এরপর তিনি আসামি পিচ্ছি রাজা এবং আরেক হাজতি আসামি খায়রুল বাশারকে ভ্যান থেকে বের করে সামনের দিকে নিয়ে যান। খায়রুল বাশারকে প্রিজন ভ্যানের চালকের সিটের পাশে বসানো হলেও পিচ্ছি রাজা এবং এসআই প্রবীর আর ভ্যানে ওঠেননি। মূলত সেখান থেকে আগে থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেট কারে উঠে আসামি পিচ্ছি রাজা পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে এসআই প্রবীর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কোনাবাড়ীর বাইমাইল ব্রিজের কাছে এসে প্রিজন ভ্যানে ওঠেন এবং স্কট পার্টির অন্য সদস্যদের নিয়ে পূর্বে দায়ের করা মামলার এজাহারে বর্ণিত মিথ্যা ঘটনাটি সাজান।
তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পিচ্ছি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেফতার করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামি এবং পলাতক আসামি পিচ্ছি রাজাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।
