BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

১৫০ জনের ১২ কোটি টাকা ফেরতের দাবিতে জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন!

কুড়িগ্রামে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের কথা বলে প্রায় ১৫০ জন জামায়াত সদস্যের কাছ থেকে নেওয়া ১২ কোটি টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দলটির চার নেতার বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত ও অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যবসায়িক চুক্তি ও পরিচালনা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘ভুক্তভোগী মাজলুম পরিবার’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্য ও তাদের স্বজনরা অংশ নেন।

মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগীদের বিনিয়োগ করা ১২ কোটি টাকা উদ্ধার এবং অর্থ ফেরত না দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে মো. তৈয়ব আলী, নোমান বিল্লাহ, মাহফুজুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, রুহুল আমীন ও মোসলেমা বেগমসহ কয়েকজন বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট), জামায়াতের রোকন আব্দুস সালাম সুজা (ফুলবাড়ী) এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের বায়তুল মাল সদস্য রফিকুল ইসলাম (ভোগডাঙ্গা) ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

তাদের দাবি, ওই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য কুড়িগ্রামের প্রায় ১৫০ জন জামায়াত সদস্যের কাছ থেকে মোট ১২ কোটি টাকা নেওয়া হয়। পরে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত না দিয়ে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তারা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি। এতে বিনিয়োগ করা পরিবারগুলোর অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জামায়াতের কাছে অভিযোগ, তদন্ত কমিটি

বিষয়টি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম শাখার আমিরকে জানানো হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

তবে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। এরপর অভিযুক্ত চার নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করেন বক্তারা।

তারা দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে বলেন, ভুক্তভোগীদের ন্যায্য পাওনা ১২ কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে এবং ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

অভিযুক্ত শাহজালাল সবুজের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ বলেন, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ মূলত রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট)-এর ব্যক্তিগত ব্যবসা ছিল।

তিনি জানান, ২০২০ সালে ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে তিনি, রফিকুল ইসলাম (ভোগডাঙ্গা) ও আব্দুস সালাম সুজাসহ রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট)-এর সঙ্গে একটি যৌথ চুক্তি হয়েছিল। তবে ওই চুক্তির ভিত্তিতে কোনো ব্যবসা শুরু করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

শাহজালাল সবুজের দাবি, ওই চুক্তিকে ব্যবহার করে তাকে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

রফিকুল ইসলামের বক্তব্য

অভিযুক্ত জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট) অবশ্য ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি, শাহজালাল সবুজ, আব্দুস সালাম সুজা ও রফিকুল ইসলাম (ভোগডাঙ্গা)—এই চারজন পরিচালক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্যবসাটি শুরু করেন।

তার দাবি, চুক্তির বাইরে রুহুল আমীন (যাত্রাপুর) ও মাওলানা জাহিদুল ইসলাম (বুড়াবুড়ি) ব্যবসাটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। অর্থাৎ মোট ছয়জন পরিচালক ব্যবসাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ছয়জনই আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, সে কারণে ভিশন এন্টারপ্রাইজের লাভ-ক্ষতির দায় ছয় পরিচালকেরই বহন করা উচিত। ভুক্তভোগীদের আমানত ফেরতের বিষয়েও তিনি অন্য পরিচালকদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসতে চেয়েছেন বলে জানান। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে একক ক্ষমতা দেওয়ায় ব্যাংকের বিভিন্ন চেকে তার স্বাক্ষর রয়েছে। অথচ তার একক নামে ৪০টিরও বেশি মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে একটি মামলায় পরিচালকদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জামায়াতের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম শাখার আমির আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, বিষয়টি নিয়ে দলীয়ভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট)-এর রোকনিয়াত স্থায়ীভাবে মুলতবি এবং তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর শাহজালাল সবুজের রোকনিয়াত দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

তবে অপর দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তেমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, ভুক্তভোগীদের পাওনা টাকা ফেরতের বিষয়ে যেকোনো ন্যায়সংগত ও আইনসংগত পদক্ষেপে জামায়াতে ইসলামী তাদের পাশে থাকবে।

ওয়েব হোস্টিং কিনুন
৭৫% পর্যন্ত ছাড়ে!
  • ফ্রি ডোমেইন ও ইমেইল
  • আনলিমিটেড ফ্রি SSL
  • ৩০ দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
অফারটি দেখুন »

- Advertisement -