BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

দেশজুড়ে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি, এলএনজি আমদানির জটিলতা ও বকেয়া অর্থ—সবকিছুর সমন্বিত প্রভাবেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. নুরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে দুর্ভোগে রয়েছে। সরকার এই বাস্তবতা আড়াল করতে চায় না। ভুল নীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের পাশাপাশি সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এই সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগাতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন।

বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। তবে এই গ্যাসের পুরোটাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করলে শিল্প ও গৃহস্থালি গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হবে।

তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও গৃহস্থালি—এই তিন খাতের মধ্যে ভারসাম্য রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। একই ক্ষমতার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরেকটি ইউনিট বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে।

দুটি ইউনিট দ্রুত পূর্ণ ক্ষমতায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আদানি গ্রুপের সঙ্গে আগের সরকারের করা বিদ্যুৎ চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী সেখান থেকে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

ফলে চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যাশিত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দেশে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর মধ্যে একটি গত ২১ জুলাই ত্রুটিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এটি মেরামত করতে প্রায় ২১ থেকে ২২ দিন সময় লাগে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রায় ৮৮ শতাংশ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী মাসের শুরুতেই জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে। আর জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প ও গৃহস্থালি—সব খাতেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখার ওপর জোর দিয়েছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসব কেন্দ্র থেকে ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা সম্ভব নয়।

কারণ এসব কেন্দ্র মূলত পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং একটানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যায় না। সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সক্ষমতায় এসব কেন্দ্র পরিচালনা করা সম্ভব।

বর্তমানে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। অর্থের জোগান বাড়ানো গেলে তা সর্বোচ্চ প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা সম্ভব বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগের সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের পুঞ্জীভূত বকেয়া মিলিয়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে সরকারের প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই অর্থ পরিশোধ করা হলে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে রাত ৮টার মধ্যে বিপণিবিতান ও দোকানপাট বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনার কথাও সংসদে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে এই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। নির্দেশনা কার্যকর করতে নিজ নিজ এলাকায় সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মধ্যমেয়াদি সমাধান হিসেবে রুফটপ সোলারকে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। আগামী গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমকে সামনে রেখে সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে স্থানীয় উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করবেন এবং উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বোচ্চ ৮ টাকা খরচ হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন, তারা তিন বছর পর্যন্ত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে বিনিয়োগের বড় অংশ তুলে নিতে পারবেন। এ খাতে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সংকটের জন্য গত দেড় যুগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নেওয়া বিভিন্ন নীতি এবং পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করার বিষয়টিকেও দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়নি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায়ও পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা হয়নি। ফলে অনেক সময় আবহাওয়াজনিত কারণ ছাড়াই দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।

জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য না থাকা এবং নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণেও সংকট বেড়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বলেন, তার নির্বাচনী এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। গত ৯ আগস্ট দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কতদিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগস্ট মাসে জনগণকে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, অন্তত সেপ্টেম্বর মাসে যাতে তা না হয়, সে জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট অস্বস্তিকর হলেও জনগণকে প্রকৃত তথ্য জানানো সরকারের দায়িত্ব। সরকার প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে এবং দ্রুতই এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সব মিলিয়ে গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত চালু করা, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানো এবং রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

ওয়েব হোস্টিং কিনুন
৭৫% পর্যন্ত ছাড়ে!
  • ফ্রি ডোমেইন ও ইমেইল
  • আনলিমিটেড ফ্রি SSL
  • ৩০ দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
অফারটি দেখুন »

- Advertisement -