ভূমিহীন বা স্থায়ী আবাসনহীন হওয়া সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বাধা হতে পারে কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে জানতে চেয়েছেন তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপকালে মন্ত্রী জানতে চান, স্থায়ী আবাসন না থাকলে কাউকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না—এমন কোনো বিধান বা সার্কুলার রয়েছে কি না।
কথোপকথনের অডিওতে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আবাসন না থাকলে আপনারা বানিয়ে দেবেন। কোন কনস্টিটিউশনে (সংবিধানে) লেখা আছে, আবাসন না থাকলে চাকরি দেওয়া যাবে না?’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থায়ী ঠিকানা নিয়োগের শর্ত হলে যাদের নিজস্ব জায়গা-জমি নেই, তাদের চাকরির সুযোগ কীভাবে থাকবে। দেশের ১৮ কোটি মানুষের আবাসন আছে? আপনি অধিদপ্তরের পাঠাবেন কেন? আমরা কি বলেছি যার আবাসন থাকবে না, সে সরকারি চাকরি পাবে না?’
মিশন আচার্যের নিয়োগ আটকে দেওয়ার বিষয়ে অধিদপ্তরের মতামত চাওয়া হয়েছিল বলে ওই কর্মকর্তা জানালে, মন্ত্রী জানতে চান, মতামতের নথি কবে পাঠানো হয়েছে এবং কোন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তার নিয়োগ আটকে রাখা হয়েছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ‘মিশন আচার্য নিয়োগপত্র হাতে পেতে যাচ্ছে… মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
মিশন ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫’-এ মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তার রোল নম্বর ৬৫১৫৩২৮। একই সময়ে সুপারিশ পাওয়া ১৮২ জনের মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেলেও স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় তার নিয়োগ আটকে যায়।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগানে ভাড়া বাসায় বেড়ে ওঠা মিশনের পুলিশি যাচাইয়ে বর্তমান ঠিকানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। আর্থিক সংকটের মধ্যেও তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পর মিশন আচার্যের নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
