BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

দাশিয়ারছড়ায় অর্ধকোটি টাকার আইসিটি সেন্টার ৬ বছর ধরে তালাবদ্ধ: ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়ায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আইসিটি সেন্টারটি উদ্বোধনের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং দীর্ঘদিনের অবহেলায় পড়ে থাকা এই সেন্টারটির কারণে স্থানীয় তরুণ শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি শেখার স্বপ্ন এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। এটি চালু না হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তুষ্টির সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারসহ অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ কাজে না আসায় অবহেলিত এই জনপদের স্বপ্ন দেখানো প্রকল্পটি এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, ২০২১ সালে দাশিয়ারছড়ায় নির্মিত আইসিটি সেন্টারের ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছিল। তবে উদ্বোধনের পর থেকে স্থানীয় তরুণদের কোনো কাজে আসেনি এই কেন্দ্রটি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় ভবনটির চারপাশে আগাছা জন্মেছে এবং দেয়ালে ও ছাদে ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, ছিটমহল বিলুপ্ত হওয়ার পর এখানে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হলেও এই আইসিটি সেন্টারটি উদ্বোধনের পর থেকে তালাবদ্ধই রয়েছে। এখানকার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা এর কোনো সুফল পায়নি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ভবনের দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ও বৈদ্যেতিক সরঞ্জাম নষ্ট হতে চলেছে। বর্তমানে ভবনটির প্রবেশপথে গবাদিপশু বেঁধে রাখা হচ্ছে এবং গোবর ও আবর্জনার স্তূপে সেখানে দুর্গন্ধময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ভবনের সিঁড়িতে ও বারান্দায় মাদকসেবীদের নিয়মিত আড্ডা বসে বলে অভিযোগ রয়েছে। জানালার ভাঙা কাচ দিয়ে ভেতরে মাকড়সার জাল ও ধুলার স্তূপের মধ্যে কম্পিউটারগুলো এলোমেলোভাবে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, উদ্বোধনের সময় নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কেন্দ্রটি সচল করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ইন্টারনেট সংযোগের অভাব, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে এটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

ADS Payra UP Election

দাশিয়ারছড়া কলেজের আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক জয়ন্ত চন্দ্র সরকার বলেন, "ছিটমহলের শিক্ষার্থী ও তরুণদের কম্পিউটার শিক্ষা, ইন্টারনেট সুবিধা এবং ডিজিটাল সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই সেন্টারটি গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তারা কোনো সুবিধাই পাননি। এটি সরকারি অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার বড় উদাহরণ।"

একই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান বলেন, "আইসিটি সেন্টারটি চালু থাকলে আমরা সহজে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, চাকরির আবেদন ও অন্যান্য ডিজিটাল সেবা পেতে পারতাম। বছরের পর বছর ধরে ভবনটি বন্ধ থাকায় আমরা চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছি। এটি দ্রুত সচল করা হলে আমরা সবাই উপকৃত হবো।"

ছিটমহল বিনিময় আন্দোলনের নেতা আলতাফ হোসেন বলেন, "আমাদের এলাকার শিক্ষিত তরুণদের কম্পিউটার শিখতে উপজেলা সদরে অথবা জেলা শহর কুড়িগ্রামে যেতে হয়। আমাদের এই কেন্দ্রটি চালু হলে এলাকার দরিদ্র ও সাধারণ ঘরের শিক্ষার্থীদের অনেক বড় উপকার হতো।"

এ বিষয়ে উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কার্যালয়ের আইসিটি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, "দাশিয়ারছড়া আইসিটি সেন্টারটিতে কিছু অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে এবং সেখানে কোনো জনবল নেই। এ ছাড়া কিছু কম্পিউটারের কারিগরি সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরে প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে।"

Pearl IT
✔ ওয়েব ডিজাইন
✔ গ্রাফিক্স ডিজাইন
✔ কন্টেন্ট পাবলিশিং
✔ এসইও সার্ভিস
অর্ডার করুন »