শাহ আলম, কুড়িগ্রাম:বৃষ্টি হলেই সড়কে জমত পানি, তৈরি হতো কাদা। শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চলাচলে দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের। এভাবে প্রায় ৩০ বছর ভোগান্তির পর কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের ছরারপাড় এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে।
সম্প্রতি সরকারি বরাদ্দে সড়কটিতে মাটি ফেলে উঁচু করা হয়েছে। এতে আশপাশের ১৫টি পরিবারসহ প্রায় ২০০ পরিবারের মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, মাটির সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকা করা হলে যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।
গৃহবধূ আশা বেগম বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ও কাদা জমে বাড়ি থেকে বের হওয়া কঠিন হতো। এখন মাটি ফেলে উঁচু করায় চলাচলে অনেক সুবিধা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পে উপজেলার ছয় ইউনিয়নে মোট ১৪০টি উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে থানাহাট ইউনিয়নে ৪৪টি, রমনায় ২৬টি, নয়ারহাটে ২১টি, রাণীগঞ্জে ১৮টি, অষ্টমীরচরে ১৯টি এবং চিলমারী ইউনিয়নে ১২টি প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় মাটি ভরাট, সড়ক সংস্কার, সিসি ঢালাই, কালভার্ট ও গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।
রমনা ইউনিয়নের সরকারবাড়ি গ্রামে জব্বারের বাড়ি থেকে গোলামের বাড়ি হয়ে পিসিং রাস্তা পর্যন্ত সড়কে সিসি ঢালাই করা হয়েছে। স্থানীয়দের হিসাবে, দুই পাশের প্রায় ১৫০ পরিবারসহ আশপাশের দুই হাজারের মতো মানুষ এর সুফল পাচ্ছেন। এ ছাড়া রমনা ইউনিয়নের সোনারীপাড়া ও দুই থানার মোড় এলাকার কয়েকটি সড়কেও গাইডওয়াল ও সিসি ঢালাইয়ের কাজ হয়েছে।
রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের বাবুয়ারপাড় গ্রামে সিসি সড়ক থেকে লিটনের বাড়ি-সংলগ্ন সড়ক সংস্কারসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ হয়েছে। স্থানীয় জয়নাল আবেদীন ও আব্দুল জলিল বলেন, এতে মানুষের চলাচল ও কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হয়েছে।
চিলমারী ইউনিয়নের কড়াই বরিশাল মৌজায় মহিজলের বাড়ি থেকে দক্ষিণে আলমের বাড়ি পর্যন্ত সড়কসহ ১২টি প্রকল্প হয়েছে। নয়ারহাটে খাউরিয়ারচর এলাকার একটি রাস্তা উন্নয়ন ও সংস্কারসহ ২১টি এবং অষ্টমীরচরে মুদাফৎকালিকাপুর হাজীপাড়া মসজিদসংলগ্ন সড়কসহ ১৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এসব কাজে গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা কিছুটা উন্নত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও সুবিধা মিলছে। তবে মাটির সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে পাকা করার দাবি তাদের।
ইউপি সদস্য রুকুনুজ্জামান স্বপন বলেন, সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দের মাধ্যমে এলাকায় উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে এসব কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
চিলমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল বলেন, উন্নয়নকাজ জনগণের সম্পদ। তাই কাজের মান ও সঠিক বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।
