মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে ৪৭ বছর বয়সে নেমেছিলেন ম্যারাথনে। পরনে ছিল সাধারণ শাড়ি, পায়ে স্যান্ডেল। কিন্তু দৌড় শুরু হতেই বারবার খুলে যাচ্ছিল স্যান্ডেল। শেষ পর্যন্ত কোনো বাধাকেই গুরুত্ব না দিয়ে স্যান্ডেল হাতে তুলে খালি পায়েই ছুটতে শুরু করেন ভারতের মহারাষ্ট্রের রামাবাই রানভীর। পথে পাথর, কষ্ট আর প্রতিকূলতা পেরিয়ে একে একে পেছনে ফেলেন স্পোর্টস জুতা ও ট্র্যাকস্যুট পরা তরুণ প্রতিযোগীদের। শেষ পর্যন্ত সবার আগে ফিনিশিং লাইন পেরিয়ে জয় ছিনিয়ে নেন এই মা। পুরস্কারের ৩ হাজার রুপিও নিজের জন্য নয়, মেয়ের পড়াশোনার পেছনে খরচ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
ভারতের মহারাষ্ট্রের বীড জেলার ৪৭ বছর বয়সী রামাবাই রানভীরের এই অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প প্রকাশ্যে এসেছে সোমবার (৩১ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে।
মহারাষ্ট্রের বীড জেলার আম্বাজোগাইয়ে ভারতীয় শিক্ষা প্রসারক সংস্থার খোলেশ্বর এডুকেশনাল কমপ্লেক্সের অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে আয়োজন করা হয় ‘অমৃত দৌড়’ নামের একটি ম্যারাথন। স্থানীয় অনেক তরুণ-তরুণীর পাশাপাশি সাধারণ প্রতিযোগী হিসেবে এতে অংশ নেন রামাবাইও।
ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ চত্বর থেকে শুরু হয়ে দৌড়টি শেষ হয় ভাগ্যনগর চত্বরে। অন্য প্রতিযোগীদের মতো রামাবাইও প্রস্তুতি নিয়ে দৌড়ে নামেন। তবে তার পোশাক ছিল অন্যদের থেকে একেবারেই আলাদা। পরনে ছিল সাধারণ শাড়ি এবং পায়ে স্যান্ডেল।
দৌড় শুরু হওয়ার পরপরই সমস্যায় পড়েন তিনি। বারবার পা থেকে খুলে যাচ্ছিল স্যান্ডেল। এতে তার দৌড়ের গতি কমে যাচ্ছিল এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। একপর্যায়ে আর সময় নষ্ট না করে স্যান্ডেল খুলে হাতে তুলে নেন রামাবাই। এরপর খালি পায়েই শুরু করেন দৌড়।
খালি পায়ে দৌড়ানোও তার জন্য সহজ ছিল না। রাস্তার পাথর ও বিভিন্ন বাধা এড়িয়ে একদিকে দৌড়াতে হচ্ছিল, অন্যদিকে সামলাতে হচ্ছিল শাড়ি। তারপরও থামেননি তিনি। নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে ছুটতে থাকেন রামাবাই।
দৌড়ের একপর্যায়ে তার সামনে থাকা একের পর এক তরুণ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলতে শুরু করেন তিনি। যাদের অনেকের পরনে ছিল স্পোর্টস জুতা ও ট্র্যাকস্যুট। কিন্তু পোশাক কিংবা জুতা নয়, শেষ পর্যন্ত রামাবাইয়ের দৃঢ় মনোবলই তাকে এগিয়ে নেয়।
সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সবার আগে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেন ৪৭ বছর বয়সী এই নারী। তার ব্যতিক্রমী জয় দেখে দর্শক ও আয়োজকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়। সবাই তাকে অভিনন্দন জানান।
তবে রামাবাইয়ের কাছে এই জয় শুধু একটি ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার আনন্দ নয়। এর পেছনে রয়েছে মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। বিজয়ী হিসেবে পাওয়া ৩ হাজার রুপি পুরস্কারের পুরো অর্থই মেয়ের পড়াশোনার খরচে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
একজন মায়ের কাছে সন্তানের ভবিষ্যতের চেয়ে বড় কিছু হয়তো আর কিছুই নয়। আর সেই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শাড়ি পরে খালি পায়ে দৌড়ে ম্যারাথন জিতে নেওয়ার গল্পটি তাই শুধু একটি প্রতিযোগিতার জয় নয়; এটি একজন মায়ের ভালোবাসা, সংগ্রাম ও সন্তানের প্রতি দায়িত্ববোধের এক অনুপ্রেরণাদায়ী উদাহরণ।
